জীবনে সফল হতে হলে আপনাকে যে 10টি অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

জারা জীবনে সফল হতে চান তাদের সতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও ভাল কিছু অভ্যাস থাকা চাই।

  “একজন ভাল উদ্যোক্তা টাকা উপার্জন করে”

                   “একজন বড় ভাল উদ্যোক্তা অনেক বেশি টাকা উপার্জন করেন।”

“কিন্তু একজন সত্যিকারের সফল ব্যাক্তি টাকা উপার্জনের চেও বেশি কিছু করেন। তারা শুধু নিজের হিসাবের খাতার মধ্যেই পার্থক্য সৃষ্টি করেন না! তাঁরা নিজের জীবন, কর্মচারীদের জীবন, গ্রাহকদের জীবন এমনকি দেশ ও পরিবেশের জন্যও অনেক বড় ভূমিকা রাখেন।”

 

“আজ আমি পৃথিবীর বড় বড় সফল ব্যক্তিদের 10টি অভ্যাসের কথা আলোচনা করবো।”

01. সূর্যদয়ের আগেই দিনের কাজ শুরু করুন:

সফল ব্যক্তিদের অন্যতম অভ্যাস হল খুব ভোড়ে ঘুম থেকে উঠা। এটা শুধু আপনার সাস্থেরই উপকার করবে না! বরং একটা ভাল সকাল একটি     উৎপাদনশীল জন্ম দিবে। চলুন তাহলে জেনে নেই বর্তমান সময়ে কিছু সফল ব্যক্তিদের ঘুম থেকে উঠার সময়:

 

সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা (সকাল 6 টা 45 মিনিট)

ডেভিড ক্যামেরন (সকাল 6 টা)

পেপসিকো সিইও (ভোড় 4টা)

রিসার্ট বেনছন (সকাল 5টা 45 মিনিট)

ডিজনেট সিইও বব (ভোড় 4টা 30 মিনিট)

মিসেল ওবামা (ভোড় 4টা 30 মিনিট)

 

আপনি যদি জীবনে সফল হতে চান তাহলে দিন শুরুর সময়টা এখনই ঠিক করে নিন। এটা আপনার ব্যক্তিগত ও পেশাদারী জীবনের জন্য খুবই জরুরী।

02. প্রতিদিন নিয়ম করে বই পড়া:

সফল ব্যক্তিদের আরেকটি অন্যতম অভ্যাস হলো নিয়মিত বই পড়া। তবে   বই গুলো গল্প বা কবিতার বই না হয়ে প্রাসঙ্গিক বই হওয়া চাই। আপনি     যে বা ব্যবসায় নিয়োজিত তাতে যদি আপনার গভীর জ্ঞান থাকে তা আপনাকে উপরে উঠতে সাহায্য করবে। বর্তমান সময়ে বিল গেটস ও মার্ক    জুগারবার্গ থেকে শুরু করে প্রায় সব সফল ব্যক্তিদেরই এটি নিয়মিত   অভ্যাস।

03. নিজের লক্ষ্য ঠিক করুন:

নিজের লক্ষ্য ঠিক করাকে প্রতিদিনের কর্তব্য মনে করুন। প্রতিদিনই, মাসে, বছরে এমনকি এক দশকে আপনি কি অর্জন করতে চান তা লিখে ফেলুন।    এমনটি আপনাকে মানুষিকভাবে এগিয়ে রাখবে ও বড় কিছু চিন্তা করতে    সাহায্য করবে যার মাধ্যমে আপনি ছোট সমস্যাগুলো সমাধান করতে   পারবেন। আপনি যদি লক্ষ্য অর্জন করতে চান তবে আপনার লক্ষ্যের সঙ্গে     সঙ্গতিপূর্ণ কিছু আকাঙ্গখা লিপিবদ্ধ করুন। যেমন:

Recommended  Samsung M30s Mide Budget High Configuration Best Smart Phone [ চায়ের দামে সরবত ]

 

পরবর্তি 10 বছরে আপনার একটি ভাল বাড়ী

একটি ভাল গাড়ী

ব্যক্তিগত সহকারী থাকবে

 

যদি এমন ধারনাগুলো আপনার মধ্যে নিয়ে আসতে পারেন তবে এটা   আপনাকে আপনার জীবনের গতি সম্পর্কে উজ্জীবিত করবে। যদি পরবর্তি 10 বছরের জীবনকে আপনি এখন দেখতে পারেন তবে আপনি সেটা অবশ্যই    বাস্তবায়ন করতে পারবেন।

04. পরিকল্পনা করুন:

আপনি সিমাহীন লক্ষ্য ঠিক করতে পারেন কিন্তু আপনাকে সেই লক্ষ্যগুলো    অর্জনের জন্য পরিকল্পনা করতে হবে। আপনার 10 বছর লক্ষ্যগুলোকে   আপনি বছর, মাস ও দিনে ভাগ করে নিন। যখন লক্ষ্যগুলো ছোট ছোট    ভাবে ভাগ হবে তখন সেগুলো অর্জন করার জন্য কর্মপন্থা ঠিক করুন।     “মনে রাখবেন আপনার কর্মপন্থা যেন আপনার কাজের ফলাফলের ওপর     দায়িত্ববান করে”। ধরুন কেউ পেশাধারী বক্তা হতে চায় যদিও সে জানে    না তার জন্য সে কিভাবে পরিকল্পনা করবে। সুতরাং তার লক্ষ্যমাত্রা স্থির   করার জন্য যদি সে বছরে 120টি বক্তৃতা দেয় তবে সে তার লক্ষ্যে     পৌছাবে। যদি বছরে 120টি হয় তবে মাসিক লক্ষ্য 10টি তারমানে প্রতি 3    দিনে তাকে 1টি বক্তৃতা করতে হবে। পরিকল্পনা করার পর মনে হবে এটা   সহজেই অর্জোনযোগ্য সুতরাং আপনারা কাজের পরিকল্পনা করুন এবং   পরিকল্পনার উপর কাজ করুন।

05. নেটওয়ার্ক স্থাপন করুন:

বর্তমান সময়ে নেটওয়ার্কের জন্য অনেক পথ রয়েছে বিশেষভাবে তথ্য     প্রযুক্তি এই কাজটিকে একদম সহজ করে দিয়েছে। একজন সফল    নেটওয়ার্ককারী হতে হলে আপনাকে উৎপাদক হতে হবে, ভোক্তা নয়। তার     মানে হলো, আপনাকে সক্রিয় হতে হবে, নিস্ক্রয় নয়। কারো কল বা ই- মেইল এর জন্য অপেক্ষা না করে, আপনি তাকে কল করুন, ই-মেইল অথবা টেক্সট করুন। নেটওয়ার্কীং এর জন্য 10 নিয়ম ব্যবহার করুন।     প্রতিদিন আপনার ব্যবসা বা সেবা সম্পর্কে কম করে হলেও 10 জন     ব্যক্তিকে জানান। 10 জনের সঙ্গে দেখা করুন। 10 জনের কাছে বিক্রি     করুন। এজন্য তাদের কল করুন, ই-মেইল করুন অথবা মেসেজ পাঠান।

Recommended  [Full Tutorial] Android থেকে কীভাবে সহজেই BDTechLab এ পোস্ট করবেন?

06. প্রতিদিন নোট লেখুন:

প্রতেক্যেরই চিন্তা করার জন্য সময়ে প্রয়োজন। ফলাপ্রশত চিন্তার জন্য   আপনাকে নোট রাখতে হবে। এছাড়া যখনই কোন ভাল চিন্তা বা কৌশল মনে আসে সঙ্গে সঙ্গে তা ডাইরীতে লেখে রাখুন। এটা আপনাকে সকল    গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর তথা দৈনন্দিন বিষয়গুলোর ওপর সজাগ রাখবে এবং সময়ে সময়ে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোর উপর প্রতিফলন করতে সাহায্য করবে। একটা সময় আপনি যখন আপনার ডায়রীতে ফিরে তাকাবেন তখন এটা    আপনাকে আপনার অতীত জীবনযাত্রা সম্পর্কে অভিভূত করবে।সবচেয়ে বড়   কথা, আপনি পরবর্তি প্রজন্মের জন্য কিছু নোট রেখে গেলেন।

07. দৈনিক ব্যাম করুন:

সফল হওয়ার জন্য আপনার শরীরকে অবশ্যই সর্বচ্চ পরিশ্রম করাতে হবে। আপনার মন আপনার শরীরকে প্রতিদিন কিছু অসাধারণ কাজ করার জন্য   বলবে এবং আপনাকে অবশ্যই তার জন্য তেরী হতে হবে। আর আপনার শরীরকে তৈরীর উত্তম উপায় হলো ব্যাম। যখন আপনার শরীর সুযোগের   জন্য তৈরী হবে তবেই আপনি সফলতার সাগর পারি দিতে পারবেন। প্রতিদিন নিয়ম করে দৌড়ান, নিয়ম করে প্রতিদিন জীমে জান এমনটি   আপনাকে শুধু কাজের জন্য অভূতপূর্ণ সহনশীলই করে তুলবে না বরং দিন   শেষ হওয়ার পূর্বেই সকল কাজ সমাপ্ত করতে সাহায্য করবে।

08. বিশ্রাম করুন:

শুধু শক্তিশালী মানুষেরাই জানে কিভাবে বিশ্রাম করতে হয় এমনকি তারা    যখন উন্নতির সর্বচ্চ পর্যায়েও থাকেন। কিন্তু কিছু মানুষ সময়ের সঙ্গে চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পরেন যা তাদের ধ্বংস করে দেয়। যখন আপনি অবসন্ন,   চিন্তুগ্রস্থ হবেন তখন আপনি মনোযোগ হারাবেন এমনকি নিজের উপর নিয়ন্ত্রনও হারিয়ে ফেলবেন। আপনাকে অবশ্যই বিশ্রাম করা শিখতে হবে     অন্যথায় আপনার মূল্যবান সময়গুলো নষ্ট হবে। “মাঝে মাঝে নিজেকে কাজ    থেকে অবমুক্ত করুন, কিছু সময় পরিবার নিয়ে ভ্রমণে যান, আপনজনের     সঙ্গে ভালবাসার কথা বলুন, রান্না করুন, মাছ ধরুন, এমনটি আপনাকে অনেক জটিল অবস্থার মধেও চিন্তা মুক্ত রাখবে।

Recommended  What is work of F1 to F12 key [F1 থেকে F12 এর সকল কাজ]

09. আগামীকালের কাজের পরিকল্পনা আজই করে ফেলুন:

প্রতিদিন সকালে পুরদিনের কাজের পরিকল্পনা করে নিন। আপনি যদি আরও অগ্রগামী হন তাহলে আগের রাতেই পরের দিনের কল্পনা করে নিবেন। যেমন: ঘুম থেকে ওঠা ভোর 5টা ফ্রেশ হওয়া, পানি পান করা, সকালের    নামাজ আদায় করা 5:30 মিনিটের মধ্যেই। আজকের দিনের গুরুত্বপূর্ণ 3-5টি কাজের পরিকল্পনা ও সময় ঠিক করুন। বাচ্চাদের স্কুল ও    পরিবারের জন্য সময় ঠিক করুন, নিজের নাস্তা খাওয়ার সময়, বিশ্রম ও     ব্যামের সময় ঠিক করুন। দিনকে 3 ভাগে ভাগ করে নিন, বিশেষভাবে সকালে ঘুম থেকে ওঠে কি করবেন, সারাদিনের পরিকল্পনা এবং ঘুমাতে     যাওয়ার আগের কাজগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমাতে যাওয়ার আগে কিছু     সময় বই পড়ার অভ্যাস করতে পারেন। প্রতিটি পরিকল্পনার আগে 3টি     বিষয় মাথায় রাখবেন, আপনার কাজ, আপনার স্বাস্থ ও আপনার জীবন।    ঘুমাতে যাওয়ার আগে এবং ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বের সময়সূচি আপনার    পুরোদিনের কাজের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জীমে যাওয়ার জন্য দিন ঠিক   করতে পারেন এবং প্রতিদিন নিয়ম করে আধা ঘন্টা বা এক ঘন্টা দৌড়াতে পারেন। মাঝে মাঝে নিজের সূচি পরিবর্তন করুন।

10. পরামর্শ নিন:

যে কোন পরিস্থিতিতে উপদেশ গ্রহণ ছাড়া সফল হওয়া খুবই কঠিন।   পৃথিবীর বড় বড় সফল ব্যক্তিরাও পরামর্শ গ্রহণ করেই সফল হয়েছেন।   পরামর্শ ছাড়া সফল এটা সাধারনথ হয় না। কোন মানুষই সব বিষয়ে সব জান্তা নয় আপনার ব্যক্তিগত অথবা প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্যের জন্য একজন    ভাল পরামর্শক খুজুন। আপনার জ্ঞানকে বাড়ান নিজের জ্ঞানকেও অন্যের   সাথে শেয়ার করুন। যখন আপনার জ্ঞানকে প্রকাশ করবেন এটা বস্তুত    কাউকে শিক্ষিত করবে উদ্বীত্ত করবে যে সে আগে বাড়তে পারে । আপনি আপনার জ্ঞানকে প্রসারিত করছেন যা আপনার ব্যক্তিত্যকে উচ্চতার শিকরে    নিয়ে যাবে।

 

”ধন্যবাদ সবাইকে”

আশাকরি টিপস টি পড়ে আপনাদের উপকারে আসবে

%d bloggers like this: